ইন্টারনেট সম্পর্কে এই ১০ টি বেসিক তথ্য জানা আছে তো?

0

পৃথিবীর ভেতর সবচাইতে বড় ইন্টার-কানেক্টেড যে নেটওয়ার্কটি বিদ্যমান, তার নাম হল ইন্টারনেট। বহু ডিভাইস নিয়ে কানেক্টেড বিশাল এই নেটওয়ার্ক তথা ইন্টারনেটে প্রতিদিন বিলিয়ন ডাটা পারাপার হচ্ছে। আমরাও প্রতিদিন নানা কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে এই নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে আসছি। তবে অনেকে এখনও রয়েছেন যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অথচ ইন্টারনেটের অনেক বেসিক তথ্য জানেননা। এই আর্টিকেলে আমি ইন্টারনেটের ১০ টি বেসিক তথ্য সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরছি। জেনে খুশি হবেন যে, এর ভেতর অনেক টার্ম টেকহাবসে বিস্তারিতভাবে ইতিমধ্যে ব্যাখা করে হয়েছে।

আমরা পৃথিবীর সবচাইতে বড় ইন্টার-কানেক্টেড নেটওয়ার্ক ইন্টারনেট’কে প্রতিনিয়ত নানাভাবে ব্যবহার করে আসছি। অথচ অনেকে ইন্টারনেটের নানা বেসিক টার্ম সম্পর্কে জানি না।

১.ওয়েব ব্রাউজার
প্রত্যেক স্মার্টফোন এবং কম্পিউটার ডিভাইসে আমরা অনেক কাজের এবং জনপ্রিয় যে সফটওয়্যারটি পাই, তার নাম হল ওয়েব ব্রাউজার। গুগল ক্রোম,সাফারি,অপেরা,ফায়ারফক্স ইত্যাদি হল জনপ্রিয় এবং ফ্রী ওয়েব ব্রাউজিং সফটওয়্যার। ওয়েব ব্রাউজার সফটওয়্যার মূলত আমাদের ওয়েবপেইজ গুলোকে দেখতে সহায়তা করে। ব্রাউজার হল মূলত একধরনের কম্পিউটার সফটওয়্যার যাকে তৈরি করা হয়েছে HTML এবং XML ল্যাংগুয়েজ দ্বারা তৈরি ওয়েবপেইজকে কনভার্ট করে বোধগম্য ডকুমেন্ট আকারে সামনে তুলে ধরার জন্য। ব্রাউজারে যেকোন ওয়েবপেইজ দেখার জন্য সেই ওয়েবপেইজ এর ইউআরএল লিখতে হয়; আর ইন্টারনেটে প্রতিটি ওয়েবপেইজ এর একটি করে ইউনিক ইউআরএল রয়েছে।

২.ওয়েবপেজ
আপনি এখন আপনার ব্রাউজার স্ক্রীনে বসে টেকহাবসের এই আর্টিকেলটি পড়ছেন, এটি একটি ওয়েবপেজ। ব্রাউজার ব্যবহার করে আপনি ইন্টারনেটের যেখানেই যা ব্রাউজ করছেন তা একটি ওয়েবপেজ। ওয়েবপেজ এর একটি নির্দিষ্ট ইউআরএল অ্যাড্রেস থাকে। আর সেই অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ব্রাউজার দিয়ে আপনাকে সেই ওয়েবপেজ এক্সেস করতে হয়। অনেকগুলো ওয়েবপেজ মিলে গঠিত হয় একটি ওয়েবসাইট।

৩.ইউআরএল
ইউআরএল এর পূর্নরূপ হচ্ছে ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর। আর এই ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর ইন্টারনেটে কোনো ফাইলের লোকেশন খুঁজে পাওয়ার একটি মাধ্যম। আপনার কম্পিউটারে কোনো ফাইল ওপেন করার জন্যে ডাবল ক্লিক করার অপেক্ষা মাত্র, তবে আপনি যখন অনলাইনে তথা কোনো ওয়েব সার্ভারে ফাইল খুঁজছেন তখন আপনার অবশ্যই একটি ইউআরএল দরকার হবে, কেননা ব্রাউজার যেন বুঝতে পারে আসলে তাকে কই কি খুঁজতে হবে।

৪.আইপি অ্যাড্রেস
আপনার কম্পিউটার, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যেকোনো ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত তথা কানেক্টেড হতে একটি ইন্টারনেট প্রোটোকল অ্যাড্রেস। আর এই ইন্টারনেট প্রোটোকল অ্যাড্রেস ইন্টারনেটে কানেক্টেডড দুটি ডিভাইসের আইডেন্টিফিকেশন এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক ইন্টারনেট ডিভাইসগুলো অটোমেটিক্যালি কোনো না কেন আইপি অ্যাড্রেস এর সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকে,একটা সময় ছিল যখন আইপি অ্যাড্রেসকে ব্যবহারকারীরা নিজে থেকে ম্যানুয়ালি প্রবেশ করাতো,তবে এখন ব্যবহারকারীকে নিজে থেকে আইপি অ্যাড্রেস প্রবেশ করাতে হয় না। আপনি ইন্টারনেটে কানেক্টেড রয়েছেন মানে আপনি একটি আইপি অ্যাড্রেস এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আর আপনি আপনার বর্তমান আইপি অ্যাড্রেস টি দেখতে চান, তবে এখানে ক্লিক করতে পারেন। আইপি অ্যাড্রেস দেখতে মূলত এইরকম হয়,

202.2.456.45 অথবা, 23AC:G6:0:6H7T:4DD:HH:FE45:9F7U

আইপি অ্যাড্রেস সংগ্রহ করে কোনো ডিভাইসকে ট্র্যাক করা যায়। হ্যাকিং করার জন্যেও আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করা যায়। আপনি আপনার কোনো বন্ধুর কানেক্টেড আইপি অ্যাড্রেস সংগ্রহের মাধ্যমে তার লোকেশনও ট্যাক করতে পারবেন।

৫.ডোমেইন অ্যাড্রেস
ডোমেইনকে আমরা আইপি অ্যাড্রেস এর আধুনিক রূপ বলতে পারি। আগে ইন্টারনেটের শুরু দিকে ওয়েবপেজ ভিজিট করতে বড় বড় ডিজিটের আইপি অ্যাড্রেস লিখতে হত। ইমেইল পাঠাতেও বড় ডিজিটের আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে হত। তবে ডোমেইন নেম সিস্টেম এসে এই অসুবিধাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। ডোমেইন নেম মূলত বিশাল সাংখ্যিক আইপি অ্যাড্রেসকে ঢেকে দেয় একটি ইউনিক নেম এর মাধ্যমে। ডোমেইন মালিক ডোমেইন রেজিস্টার করার সময় একটি ইউনিক নাম বা শব্দ দেন। যেমন এই ওয়েবসাইট এর অ্যাডমিন সাইটের ডোমেইন এর জন্য একটি ইউনিক নেম বা শব্দ বাছাই করেছেন তা হল techubs। এইসব ডোমেইন এই ইউনিক নেম অবশ্যই হতে হবে অ্যালফাবেটিক্যাল ওয়ার্ড বা নাম্বার। আর পাশাপাশি এই ইউনিক নেম এর সাথে যুক্ত হবে একটি করে ডোমেইন পদবি ; যেমন: .net, .com, .org ইত্যাদি। এদেরকে টপ লেভেল ডোমেইন বলা হয়। আর এই ইউনিক ডোমেইন ওয়ার্ড আর সাথে পদবি নিয়ে তৈরি হয় একটি পুরোপুরি ডোমেইন অ্যাড্রেস। ডোমেইন অ্যাড্রেস কিনে ওয়েব সার্ভারের সাথে যুক্ত করা হয়। তারপর এটিকে ওয়েবসাইট এর ইউআরএল হিসেবে এবং মেইল চালাচালির মেইল অ্যাড্রেস এর জন্য ব্যাবহার করা যায়।

৬.ওয়েব সার্ভার
ওয়েব সার্ভার হলো একধরনের কম্পিউটার কাঠামো যেখানে মূলত ওয়েবসাইট’কে হোস্ট করা হয়। ওয়েব সার্ভার অত্যাধুনিক একরকম কম্পিউটার সিস্টেম এবং খুবই সচরাচর বাসাবাড়ি তে ব্যবহৃত কম্পিউটার থেকে অনেক শক্তিসালী। কতগুলো ওয়েবসার্ভার এর সমষ্ঠি নিয়ে গঠিত হয় ডাটাসেন্টার।

৭.http এবং https
আপনি হয়ত কোনো ওয়েবসাইট এর ইউআরএলে ডোমেইন এর আগে https বা http লক্ষ্য করেছেন। এগুলো বলতে আসলে বোঝায় সেই ওয়েবসাইট এর সার্ভার এবং আপনার কম্পিউটার এর মধ্যকার তথ্য আদান প্রদানের ধরন। http এর পূর্নরূপ হচ্ছে Hyper text transfer protocol। যখন আপনি একটি http সাইটে প্রবেশ করে সেই সাইটের রিসোর্স ব্যবহার বা উপভোগ করছেন, তখন সেই সাইট এবং আপনার ব্রাউজারের ভেতর নানা রকম তথ্য যেমন, ছবি,লেখা, ভিডিও এসবের আদান প্রদান হচ্ছে সুন্দরভাবে এবং কোনোরকম এনক্রিপশন ছাড়া। অন্যদিকে https এর পূর্নরূপ হচ্ছে hyper text transfer protocol secure। আর এখানে আপনার ব্রাউজার এবং ওয়েবসাইটের সার্ভার এর ভেতর তথ্য আদান প্রদান এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে তথ্য এনক্রিপ্ট হয়ে যায়। এখানে আপনার পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড তথ্য,ব্যাক্তিগত ইনফর্মেশন ইত্যাদি গোপন থাকে।

৮.এইচটিএমএল এবং এক্সএমএল
HTML বা Hypertext Markup Language হল ওয়েবপেজ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। HTML একটি ওয়েবপেজ এর ক্ষেত্রে টেক্সট ও কনটেন্ট একটি নির্দিষ্ঠ আকারে দেখানোর জন্য ওয়েব ব্রাউজারকে নির্দেশ দেয়। XML বা eXtensible Markup Language HTML এর মতই ;বলা যায় এটি HTML সৎ ভাই। এই ল্যাংগুয়েজে ওয়েব কনটেন্টকে ক্যাটালগ এবং ডাটাবেজ এর অধীনে আনা যায়, বাকি সব এইচটিএমএল এর মত। XML এবং HTML এর সংমিশ্রনে নতুন একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ তৈরি হয়েছে যার নাম XHTML।

৯.আইএসপি
আইএসপি বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার হল তারা যারা আপনাকে বিশাল এক নেটওয়ার্ক তথা ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত করিয়ে দিচ্ছে। আপনি হয়ত মোবাইল সিম এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, এক্ষেত্রে অপারটর গ্রামীনফোন,রবি ইত্যাদি আইএসপি। বাসাবাড়ি, অফিসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এর ক্ষেত্রে স্হানীয় ব্রডব্যান্ড প্রোভাইডারেরা হল আমাদের আইএসপি। আইএসপি নানারকম ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইড করে। আইএসপি এর কাছে আমরা কী কী ইন্টারনেট সার্ভিস ব্যবহার করব কি করবনা তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন থাকে। আইএসপিই সাধারনত ইন্টারনেটের যাবতীয় স্পীড তথা গতি নিয়ন্ত্রন করে থাকে। যত ভালো আইএসপি তত বেশি নিরাপত্তা, তত ভালো ইন্টারনেট ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স।

১০.ই-কমার্স
ই-কমার্স এর পূর্নরূপ হচ্ছে ইলেকট্রনিক কমার্স। এখানে যা হয়ে থাকে তা হল, কোনো কিছুর কেনা-বেচা হয়ে থাকে অনলাইনে। বলা যেতে পারে অনলাইন শপিং সেন্টার বা মার্কেটপ্লেস। আমাদের দেশে বর্তমানে কিছু জনপ্রিয় ইকমার্স মার্কেটপ্লেজ হল আজকেরডিল,দারাজ। ই কমার্স উন্নত বিশ্বে অনেক জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে এখন এটি একটি উঠতি খাত। এখনও আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে ইকমার্স এর প্রসার ঘটেনি। মানুষ এখনও সেভাবে অনলাইন ভিত্তিক কেনাকাটাকে বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না।

নিয়মিত tuneround এর প্রতিটি আর্টিকেল পড়ে, আপনি ইন্টারনেট সহ কম্পিউটিং জগতের আরও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন আরও বিস্তারিত। আশা করি এই আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে। নিচে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না; যেহেতু আর্টিকেলটি লেখা আপনাদের জন্য, তাই আপনাদের মতামত আমাদের কাম্য।

Share.

About Author

Leave A Reply

Powered by tuneround.com