Posts

Showing posts from December, 2018

মানুষ চলাচলের সম্ভবনা থাকলে সামনে সুতরা রেখে নামায পড়া

Image
হযরত আবু জুহাইম রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ স.কে বলতে শুনেছি, নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত তার অপরাধ কী পরিমাণ, তাহলে তার নিকটে চল্লিশ বছর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে উত্তম হত। (মুসনাদে বায্ যার-৩৭৮২) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবনে মাযা শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।


হাদীসটির স্তর: সহীহ। এ হাদীসটির রাবীগণ সকলেই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আল্লমা হাইসামী বলেন, হাদীসটি বয্ যার বর্ণনা করেছেন এবং এর রাবীগণ সহীহ হাদীসের রাবী। (মাযমাউজ যাওয়ায়েদ-২৩০২)
হযরত সাবরা বিন মা'বাদ রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ নামায আদায় করার সময় যেন সুতরা বানিয়ে নেয়। যদিও তা তীর দ্বারা হয়। (ইবনে আবি শাইবা-২৮৭৯)
হযরত আয়েশা রা. বলেন: তাবুকের যুদ্ধের সময় রসূলুল্লাহ স.-এর কাছে নামাযীর সামনের সুতরা সম্পর্কে জিঙ্গেস করা হলে তিনি বললেন: তা হলো হাওদার পিছনের খুঁটির ন্যায়। (মুসলিম: ৯৯৬-৯৯৭) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
হযরত আতা বিন আবি রবাহ রহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, 'হ…

সালাতুত তাসবীহ

Image
হযরত আবু রাফে' রা. থেকে বর্ণিত, রসূল স. হযরত আব্বাস রা.কে এভাবে সালাতুত তাসবীহ শিক্ষা দেন যে, আপনি চার রাকাত নামায পড়বেন; প্রত্যেক রাকাতে ছূরা ফাতেহা এবং অন্য একটি ছূরা পড়বেন। যখন প্রথম রাকাতের কিরাত পড়ে অবসর হবেন তখন দাঁড়িয়ে পনের বার  سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ اَكْبرُ
বলবেন। এর পরে রুকু করবেন এবং  রুকু অবস্থায় দশবার পড়বেন। অতঃপর রুকু হতে মাথা উত্তোলন করবেন এবং দশবার পড়বেন। এর পড় সিজদার জন্য ঝুঁকবেন এবং সিজদারত অবস্থায় দশবার পরবেন। অতঃপর সিজদা হতে মাথা উত্তোলন করবেন এবং দশবার পরবেন। এর পর ২য় সিজদায় দশবার পরবেন। অতঃপর মাথা উত্তোলন করে (দাঁড়ানোর পূর্বে) দশবার পরবেন। এ হলো প্রত্যেক রাকাতে পঁচাত্তর বার। অনুরুপভাবে চার রাকাতে করবেন। রসূল স. বলেন, আপনি পারলে দৈনিক একবার পড়বেন। যদি তা না  পারেন তাহলে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি তা না পারেন তাহলে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে একবার না পরেন তাহলে বছরে একবার পড়বেন। যদি তাও না পারেন তাহলে পূর্ণ জীবনে একবার পড়বেন। (আবু দাউদ শরীফ-৪৮২)। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ হাদীসটি নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।


হাদীসটির স্তর :  সহী…

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রকৃত সময়

Image
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় নামাযের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ আছে। যোহরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঢোলে পড়লে আর শেষ হয় আসরের ওয়াক্ত এলে। আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করলে তা শুরু হয় আর শেষ হয় সূর্যের কিরণ হলুদ হয়ে গেলে। মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য ডুবে গেলে আর শেষ হয় পশ্চিম আকাশের আভা চলে গেলে। ইশার ওয়াক্ত শুরু হয় আভা চলে গেলে আর শেষ হয় রাত অর্ধেক হলে। আর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় সুবহে সাদিক উদিত হলে আর শেষ হয় সূর্য উঠলে। (তিরমিযী: ১৫১)


হাদীসের স্তর : সহিহ। ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটির এ সনদের উপর কিছুটা আপত্তি করলেও ভিন্ন সনদে হাদীসটির এ বক্তব্যকে সহীহ বলেছেন। মুসনাদে আহমাদের তাহকীকে শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ বুখারী- মুসলিমের বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। (মুসনাদে আহমাদ -৭১৭২)। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি মুয়াক্তা মালেক এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামেউল উসূল-৩২৭৪)

সারসংক্ষেপ : এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় সুবহে সাদিক উদিত হলে আর শেষ হয় সূর্য উদয়ের পূর্বক্ষণে। যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য প…

অযু বা গোসলের দ্বারা শরীর পবিত্র করা

Image
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: হে ঈমানদার গণ! তোমরা যখন নামাযে দাঁড়ানোর ইচ্ছা কর তখন তোমাদের চেহারা ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো। আর তোমরা যদি জুনুবী হও অর্থাৎ গোসলের প্রয়োজন হয় তাহলে খুব ভালো করে পবিত্রতা অর্জন করো (সুরা মায়েদা: ৬)।
হযরত আবু  হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তির অযু ভেঙ্গে যাবে অযু না করলে তার নামায কবুল হবে না। (বুখারী:১৩৭) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদিসটি মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিযী শরীফেও বর্ণিত হয়েছ। (জামেউল উসুল-৫২১৮)
সারসংক্ষেপ : উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নামাযে দাঁড়ানোর পুর্বে ছোট-বড় সব ধরণের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া জরুরী।


শরীরের কোথাও নাপাক লেগে থকলে তা পবিত্র করা 

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার রা. বলেন, আমি রসুল স. থেকে শুনেছি যে, পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল হয় না। (মুসলিম-৪২৮) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি তিরমিযী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (তিরমিযী-১)
সারসংক্ষেপ : এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ তাআলা নামায কবুল করেন না। শরীর পাক, কাপড় পাক ও নামাযের জায়গা…