নামাযের জন্য উত্তম পোশাক গ্রহণ করা


uttom_pushak

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক  অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজ-সজ্জার বস্ত্র। আর পরহেযগারীর পোশাকই সর্বত্তম। (সূরা আ'রাফ: ২৬)
তিনি আরও ইরশাদ করেন : হে বনী আদম!  তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো এবং খাও ও পান করো; তবে অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা আ'রাফ: ৩১)
ফায়দা: সূরা আ'রাফ-এর ৩১ নং আয়াতের তাফসীরে ইমাম কুরতুবী রহ. হযরত আবুল ফারাজ রহ.-এর বরাতে বর্ণনা করেন যে, সালাফে সালেহীনগণ মধ্যম ধরনের কাপর ব্যবহার করতেন; যা অত্যন্ত মূল্যবানও নয়, আবার একেবারে নিম্নমানের নয়। আর তাঁর জুমআ ও ঈদের নামায এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মুলাকাতের সময় উত্তম কাপড়  পরতেন। তাঁদের নিকটে উত্তম কাপর পড়া অপছন্দনীয় নয়। তবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বৈরাগ্য ও দরিদ্র প্রকাশের পোশাক পরিধান করা আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধে নালিশ  করার ভাষা সাদৃশ্য; আর তা মাকরুহ।
সারসংক্ষেপ : উক্ত আয়াতদ্বয়ে পোশাককে লজ্জা ঢাকার মাধ্যম হওয়ার পাশাপাশি সাজ-সজ্জা হিসেবেও প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং নামাযে ব্যবহৃত পোশাকে সাজ-সজ্জা গ্রহণের উপযোগীতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, উত্তম পোশাক হতে হবে। অতএব, সতর ঢাকা ছাড়াও অবশিষ্ট শরীর না ঢেকে নামায পড়া অথবা সাজ-সজ্জা পরিপন্থী জীর্ণ-শীর্ণ কাপড়ে নামায পড়া উভয়টাই মাকরূহ হবে।

উত্তম পোশাক হিসেবে নামাযে পাগড়ী ও টুপি ব্যবহার করা

অনুবাদ : হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, হযরত উমার রা. এক ব্যক্তিকে এমন একটি টুপি পরে নামায পড়তে দেখলেন যে টুপির ভিতরের অংশ ছিলো শিয়ালের চামরার তৈরী। (ইবনে আবি শাইবা-৬৫৩৬)

হাদিসের স্তর : সহীহ। এ হাদীসের রাবীগণ সকলেই প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস এবং বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাহাবায়ে কিরামের  সময়  টুপি মাথায় দিয়ে নামায পড়ার প্রচলন ছিলো। সুতরাং এটা নামাযের আদব বা মুস্তহাব।

অনুবাদ : হযরত হিলাল বিন ইয়াসাফ রহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত ওয়াবেসা রা.কে দুই কান বিশিষ্ট টুপি মাথায় দিয়ে নামায পড়তে দেখেছেন। (আবু দাউদ-৯৪৮)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূল স.-এর সাহাবা টুপি মাথায় দিয়ে নামায পড়েছেন। সুতরাং টুপি মাথায় দিয়ে নামায পড়া মুস্তাহাব।
হযরত মুগিরা বিন শ্ত'বা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে রসূল সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জামা এবং পাগড়ী পরিহীত অবস্হায় অযু করলেন এবং নামায আদায় করলেন। (মুসলিম-৫২৬) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ এবং মুয়াত্তা মালেকেও বর্ণিত হওয়েছে।) (জামেউল উসূল-৩৮৯৮)

সারসংক্ষেপ : উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূল স. এবং সাহাবায়ে কিরাম নামাযে টুপি এবং পাগড়ী ব্যবহার করতেন। অযুর সময় পাগড়ী মাথায় থাকা থেকে আরও প্রমাণিত হয় যে, নামাযের পূর্ব থেকে রসূল স.-এর মাথায় পাগড়ী বাঁধা ছিলো। শুধু নামাযের জন্য বাঁধেননি। অতএব, উত্তম পোষাক হিসেবে পাগড়ী পরা এবং সে পাগড়ী নিয়ে নামায পড়া ছুন্নাত।

ফায়দা : পাগড়ী উত্তম পোশাকের আওতাভুক্ত। আর পূর্বের অধ্যায়ে বর্ণিত সূরা আ'রাফের ৩১ নং আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যে, উত্তম পোশাকে নামায পড়া ছুন্নাত। অনুুরূপভাবে টুপিও পোশাকের ছুন্নাত। শুধু নামাযের জন্য টুপি ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। বরং পোশাক হিসেবে যেমনিভাবে জামা, পাজামা, লুঈি, গেঞ্জী, রোমাল এবং অন্যান্য কাপড় চোপড় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তেমনিভাবে টুপি ব্যবহার করাও পোশাকের আওতাভুক্ত।
এর বিপরিতে কোন কোন হাদীসে পাগড়ীসহ নামাযকে বিনা পাগড়ীর নামাযের চেয়ে অনেক গুণ ফজিলতওয়ালা বলা হয়েছে। যেমন পাগড়ীসহ একটি নামায পাগড়ীবিহীন পঁচিশটি নামাযের চেয়ে উত্তম এবং পাগড়ীসহ  একটি জুমা পাগড়ীবিহীন সত্তরটি জুমার চেয়ে উত্তম। আল্লামা নূরুদ্দীন কানানী রহ. তান্ ঝীহুশ শরীআ'তিল মারফুআ'হ আ'নিল আখবারিশ শানিআ'তিল মাউযুআ'হ কিতাবের ১৩৯ নম্বর হাদীসে এটাকে মাউযু' বা জাল হাদীস বলেছেন।
অনুরূপভাবে আল্লামা মুল্লা আলী কারী রহ. আল মাউযুআ'তুছ ছুগরা কিতাবে এটাকে মাউযু' হাদীস বলেছেন। তিনি আরও বলেন, আল্লামা মানুফী বহ. এ জাতীয় সবগুলিকে বাতিল বলেছেন। (আল মাউযুআ'তুছ ছুগরা, হাদীস নং-১৭৭) অতএব, পাগড়ী এবং টুপি পরে নামায পড়া দরকার। তবে এটাকে নামাযের ছুন্নাত হিসেবে বিশ্বাস না করে পোশাকের ছুন্নাত হিসেবে বিশ্বাস করা উচিত। এমন কাজ থেকেও বিরত থাকা চাই যা দ্বারা সাধারণ মানুষ এটাকে নামাযের সুন্নাত মনে করে। যেমন ইকামাতের সময় পাগড়ী বাঁধা আবার সালাম ফিরিয়ে পাগড়ী খুলে রাখা। অনুুরূপভাবে নামাযের সময় টুপি মাথায় দেয়া আবার নামায শেষ করে টুপি খুলে রাখা ইত্যাদী।

Post a Comment

0 Comments