জুমআর নামাযের ওয়াক্ত


Namaz

হযরত আনাস রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. সূর্য ঢলে গেলে জুমআর নামায আদায় করতেন। (বুখারী: ৮৫৮) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি আবু দাউদ এবং তিরমিযী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামেউল উসূল-৩৯৫৯)
হযরত আনাস রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. প্রচন্ড শীতের সময় শুরু ওয়াক্তে আদায় করতেন। আর প্রচন্ড গরমের সময় ঠান্ডা করে আদায় করতেন।অর্থাৎ, জুমআর  নামায। (বুখারী: ৮৬০)
সারসংক্ষেপ : এ হাদীস দু'টি থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূল স. শীতের দিনে পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে যাওয়ার সাথে সাথেই জুমআর নামায আদায় করতেন। আর গরমের দিনে আরও পরে গিয়ে সূর্যের তাপ কমে গেলে আদায় করতেন।
সুতরাং এটাই জুমআর নামাযের মুস্তাহাব ওয়াক্ত।

জুমআর দিন গোসল করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত 


হযরত সালামান ফারসী রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. ইরসাদ করেন: যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে। অতঃপর তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়; আর দু'জনের মধ্যে ফাঁকা সৃষ্টি করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ নামায আদায় করে। অতঃপর ইমাম বের হয়ে এলে চুপ থাকে। তার এ জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী: ৮৬৪) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামেউল উসূল-৭১০৩)
সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে জুমআর দিনে গোসল করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করার গুরুত্ব প্রমাণিত হলো। তবে জুমআর দিনে গোসল করা ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাত এবং উত্তম। হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইসলামের শুরু যুগে জুমআর জন্য গোসল করা আবশ্যক ছিলো। পরে তা রহিত হয়ে গেছে। (ত্বহাবী শরীফ-৭০৭)

জুমআর নামাযে আগে আগে উপস্থিত হওয়ার ফযীলত 

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন: রসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন: জুমআর দিন ফিরিশতাগন মসজিদের দরজায় অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। সর্বপ্রথম আগমনকারী ব্যক্তি একটি উট কুরবানীকারী ব্যক্তির মতো, পরবর্তীগণ একটি গাভী কুরবানীকারীর মতো, এর পরের আগমনকারীরা ভেড়া কুরবানীকারীর মতো, তার পরবর্তীগণ মুরগী দানকারীর মতো এবং শেষে আগমনকারীগণ ডিম দানকারীর মতো। অতঃপর যখন ইমাম সাহেব বের হন তখন ফিরিশতাগণ তাঁদের খাতা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগের সাথে খুৎবা শুনতে থাকেন। (বুখারী: ৮৮২) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাযা শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামেউল উসূল-৭১০২)
সারসংক্ষেপ: এ হাদীস দ্বারা পাঁচজন ব্যক্তি উদ্দেশ্য নয় বরং পাঁচ স্তর উদ্দেশ্য। অর্থাত আযান থেকে খুৎবা শুরু পর্যন্ত সময়টা পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগে উপস্থিত ব্যক্তিগণ উট এবং পরবর্তীতে আগতরা পরবর্তী পুরুস্কার পাবে।

জুমআর পূর্বে কমপক্ষে চার রাকাত নামায পড়া 

হযরত আলী রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. জুমআর পূর্বে চার রাকাত এবং জুমআর পরে চার রাকাত আর শেষ রাকাতে সালাম ফিরাতেন। আবু ইসহাক থেকে এ হাদীসটি কেবল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, আর হুসাইন থেকেও শুধু মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন। (মু'জামে আওসাত: ১৬১৭)
হাদীসটির স্তর: হাসান। আহমদ বিন হুসাইন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান ও আছেম বিন যমরা ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সকলেই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আর আহমদ বিন হুসাইনের ব্যাপারে ইমাম জাহাবী রহ. বলেন: ইমাম দারাকুতনী রহ. তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। (তারীখে ইসলাম-৬/৮৭৭) মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমানকে কউ কেউ জঈফ বলেছেন। তবে ইবনে আদী রহ. বলেন: তাঁর ব্যাপারে কোন আপত্তি নেই। ইবনে হিব্বান তাঁর নাম নির্ভরযোগ্য রাবীদের তালিকা সম্বলিত 'ছিকাত' কিতাবে বর্ণনা করেছেন। (লিসানুল মীযান: রাবী নং- ৭০৫০) আছেম বিন যমরা সত্যনিষ্ট। (তাকরীব: ৩৩৮৪)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূলুল্লাহ স. জুমআর পূর্বে ও পরে চার রাকাত করে নামায পড়তেন। সনদের বিবেচনায় হাদীসটি হাসান হলেও সহীহ সনদে বর্ণিত সাহাবায়ে কিরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অবশ্যই রসূলুল্লাহ স. থেকে তাঁরা এটা দেখেছেন বা শুনেছেন।

Post a Comment

3 Comments