বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯- প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে


Bishwa_Ijtema

কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমার ব্যবস্থা পুরোদমে চলছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থেকে দুই পর্বে একটানা ৪ দিন চলবে ইজতেমা। বছরে ৩ দিন করে দুই পর্বে হলেও এবারই প্রথম ২ দিন করে বিরতিহীনভাবে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা হবে। প্রথম পর্বে ১৫ এবং  ১৬ ফেব্রুয়ারি তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের শীর্ষ মুরব্বি ও কাকরাইল জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদের অনুসারী মুসল্লিরা অংশ নেবেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়ে সর্বপ্রথম পর্বে আগত মুসল্লিরা রাতের মধ্যে ময়দান ত্যাগ করবেন। তারপর মাওলানা সা’দ আহমাদ কান্ধলভীপন্থী মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের অনুসারী মুসল্লিরা আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রোববার বাদ ফজর থেকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যাহ্নের আগে যে কোনো সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় পর্ব তথা এবারের বিশ্ব ইজতেমা। প্রতি পর্ব ইজতেমা কার্যক্রম শেষে জিম্মাদাররা ময়দানের কার্যভার প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দেবেন।

শুক্রবার ইজতেমা ময়দান সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইজতেমাকে ঘিরে চলছে সবধরনের প্রস্তুত বিষয় কাজ। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ময়দানের কাজ কর্ম করছেন। প্যান্ডেল প্রস্তুত কাজ ছাড়াও রাস্তা মেরামত, মাইক টানানো, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ময়দানের আগাছা পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন মুসল্লিরা। এমতাবস্থায় প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী স্থানের আনোয়ারুল ইসলাম (হালকা নং-৪০৭) দেড়শ’ সাথী ভাই নিয়ে ময়দানের কাজ করছিলেন। সে বলেন, আল্লাহর মেহমানরা ইবাদত বন্দেগি করতে আসবেন। তারা যেন সুন্দরভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে পারেন সেই দিক খেয়াল রেখে ময়দানের কাজ করে যাচ্ছি। টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকার মুসল্লি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, বিদেশি মেহমানদের কক্ষ পরিষ্কার করছি। যাতে বিদেশি মেহমানরা ইজতেমা ময়দানে এসে কোনো প্রকার দুঃখ, কষ্ট না পান।

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের (সাফাই) পরিচ্ছন্ন কমিটির জিম্মাদার ফকির আতাউর রহমান বর্ণনা করেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা। এ উদ্দেশ্য প্রস্তুতিকাজ চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগের মতো ময়দানের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে শুক্রবার থেকে ইজতেমা আরম্ভ হলেও বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকেই আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে আ’ম বয়ান শুরু হবে।

এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের শীর্ষ মুরব্বি ও শূরা সদস্য মাওলানা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ময়দানের প্রস্তুতিকাজ সমাপ্তি করতে হাতে সময় খুবই অল্প। তাই ময়দানের প্রস্তুতির কাজ সম্পূর্ণ করতে আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। আমার সঙ্গে মাওলানা মাহফুজুল ইসলাম, মাওলানা হাসনাত ও আবুল হাশেম আছেন। আমরা চারজন শূরা সদস্য মাসোয়ারা করে ময়দানের প্রস্তুতিকাজ করছি। আশা করি, আগামী ১৫ তারিখের আগেই কাজ শেষ হবে, ইনশাআল্লাহ।

ইজতেমা সমৃদ্ধিপূর্ণ করার আহ্বান হেফাজত আমীরের : হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, বিশ্ব ইজতেমা সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত আমীরসহ শীর্ষ আলেমরা। হেফাজত নেতা আল্লামা শাহ আহমদ শফী, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা আবদুল হালিম বুখারী ও জামিয়া আরাবিয়া জিরির মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়বসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা শুক্রবার সন্ধ্যায় বর্ণনায় এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তারা বিশ্ব ইজতেমায় সব উলামা-মাশায়েখ, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, স্কুল কলেজ-ভার্সিটির ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মুসলমানকে ইজতেমায় উপস্থিত হয়ে নগদ-নগদ আল্লাহর রাস্তায় জামাত বের করার তাগিদ দেন। বলেন, গত বছরগুলোতে তাবলিগের সাথীদের ইজতেমা আরম্ভর ১ দিন আগ থেকে টঙ্গী মাঠের এন্তেজামের আলোচনা হয়। তাই মেহনতের সাথীদের ওই মজমায় উপস্থিত হওয়া জরুরি। বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আল্লাহর নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

Post a Comment

0 Comments