কম্পিউটারের আনুসাঙ্গিক উপকরণ পরিচিতি



ক) প্রিন্টার (Printer): প্রিন্টার কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটারের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ফলাফলকে লিখিত আকারে পাওয়ার জন্য প্রিন্টার ব্যবহার করা হয়। পার্সোনাল কম্পিউটারের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রিন্ট কাজের জন্য মুলতঃ তিন প্রযুক্তির প্রিন্টার ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ

ডট মেট্রিক্স প্রিন্টার (Dot Matrix Printer):
এ ধরনের প্রিন্টারে একটি প্রিন্ট হেড (Head)-এ মেট্রিক্স (Matrix) পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক পিন সাজানো থাকে। নির্দিষ্ট একটি প্রিন্ট লাইনে এই হেড এবং পিনগুলো সচল থেকে প্রিন্ট রিবন (Ribon)-এ অনবরত এবং দ্রুত ডট দিয়ে কাগজে অক্ষর ফুটিয়ে তোলে। নিখুঁত এবং দ্রুত ছাপার জন্য বাজারে বিভিন্ন সংখ্যক পিযুক্ত প্রিন্টার পাওয়া যায়।  পিন-এর সংখ্যা বেশি হলে ছাপার মানও ভাল হয়।

ইংক জেট প্রিন্টার (Ink Jet Printer):
ভট মেট্রিক্স প্রিন্টারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভাল মানের আরেকটি প্রিন্টার হচ্ছে-ইংক জেট প্রিন্টার। বিভিন্ন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান একে বাবলজেট (Bubble Jet) বা ডেক্সজেট (Desk Jet) প্রিন্টার নামেও আখ্যায়িত করেন। এ ধরনের প্রিন্টার একটি তরল কালিযুক্ত কার্টিজ (Cartridge) দ্বারা ইলেকট্রনিক সার্কিটের প্রিন্ট হেড এর মাধ্যমে কাগজে তথ্য বা চিত্র ছাপানোর কাজটি সম্পাদন করে। ছাপানো প্রক্রিয়ায় এ প্রিন্টারটি মোটামুটি শব্দহীনভাবে কাজ করতে পারে।



লেজার প্রিন্টার (Laser Printer):
উপরোক্ত দু'টি প্রযুক্তির প্রিন্টারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নিখুঁত ছাপার জন্য লেজার প্রিন্টার ব্যবহৃত হয়। এ প্রিন্টারের কালি পাউডারের ন্যায় শুকানো অবস্থায় একটি কার্টিজ বা টোনার (Toner)-এ থাকে এবং কম্পিউটার হতে কোন তথ্য বা চিত্র প্রিন্ট করার নির্দেশ দেয়া হলে লেজার রশ্নি (Laser Beam) ব্যবহার করে প্রিন্টার অতি দ্রুত গতিতে কাগজে ছাপার কাজটি সম্পাদন করে।

খ) স্পিকার (Speaker):
এটি কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস, যা কম্পিউটারের শব্দ বা ধ্বনীকে শ্রোতার নিকট বোধগম্য করে তুলে।

গ) স্ক্যানার (Scanner):
কাগজ, কাপড় বা এ ধরনের কোন স্হির উপাদান হতে কোন ছবি, চিত্ৰ বা এ জাতীয় কোন বিষয় ফটোকপির ন্যায় হুবহু চিত্রের আকারে কম্পিউটারে প্রবেশ করানোর জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় ইনপুট ডিভাইস হচ্ছে  স্ক্যানার। প্রকাশনা শিল্পে ও ছবি প্রিন্টিং প্রেসে এ ডিভাইসটি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

এ ছাড়াও ট্যাকবল, জয়স্টিক, লাইটপেন, ডিজিটাইজার ও এমআর, মাইক্রোফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত ইনপুট ডিভাইস। কম্পিউটারে তথ্য প্রদান ও গ্রহন দ্বিমুখী কাজে ডিস্ক, সিডি, মডেম, পেন ড্রাইভ এই প্রভৃতি সরঞ্জাম একই সাথে ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইস রূপে ব্যবহৃত হয়।

ঘ) ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার (Voltage Stabilizer): কম্পিউটারের প্রতিটি যন্ত্রাংশ অত্যন্ত ছোট এবং সুক্ষ্ন। বিদ্যুতের উঠানামা যাতে কম্পিউটারের ক্ষতি করতে না পারে সে কারণে অবশ্যই ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার (Voltage
Stabilizer) ব্যবহার করতে হবে। ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ পরিমাপের অর্থাৎ 'ভিও' ক্ষমতা সম্পন্ন হতে পারে। ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বিদ্যুতের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে বড় কার্যকরী যন্ত্র । কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য বিশেষ উপযোগী যা নির্দিষ্ট পরিমানের চেয়ে বেশি বা কম বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেয় না।

ঙ) ইউ পি,এস (U.P.S): ইউপিএস অর্থাৎ এর পুরো নাম হলো আন ইনটারাপটেড পাওয়ার সাপ্লাই (Uninterrupted Power Supply)। এটা আমাদের দেশে কিম্পিউটার ব্যবহারকারীগনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে ইউপিএস ধারণকৃত বিদ্যুৎ  কম্পিউটারে সরবরাহ করতে পারে। একটি ইউপিএস পাঁচ মিনিট থেকে ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে । তার বেশি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ইপিএস ও পাওয়া যায়।

শেষ কথাঃ আসা করি সকলের ভালো লেগেছে, নতুন কিছু পেতে টিউনরাউন্ড ডট কম এর সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।
  

Post a Comment

0 Comments