কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিচিতি


ক) সিস্টেম ইউনিট (System Unit):

সিস্টেম ইউনিটই মাইক্রো কম্পিউটার এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে মেমোরী, প্রসেসর, মাদার বোর্ড, হার্ডডিক্স ড্রাইভ, ফ্লপিন্ডিক্স ড্রাইভ, পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে। বর্তমানে দুই ধরনের সিস্টেম ইউনিট বাজারে চালু আছে।


খ) মনিটর (Monitor):

কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শনের জন্য লিভিনের ন্যায় যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়, তাকে ডিসপ্নে ইউনিট বা মনিটর এল এর কম্পিউটার সংগঠনে অন্যতম
আবশ্যিক উপকরণ। বাহ্যিক দিক হতে মনিটর টেলিভিশনের ন্যায় হলেও এতে ব্যবহারের পার্থক্যের কারনে সাধারণতঃ  টিভির ন্যায় সকল যন্ত্রাংশ থাকে না। কিন্তু, টিভির তুলনায় এর তথ্য ৰা চিত্র প্রদর্শন ক্ষমতা  তুলনামূলকভাবে নিখুঁত হয়।

পর্সোনাল কম্পিউটারের জন্য বাজারে বিভিন্ন সবিধা সম্বলিত (যেমন,মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের সুবিধা বা টিভি-র ন্যায় বিভিন্ন চ্যানেল  প্রদর্শনের সুবিধাসহ) এবং বিভিন্ন  আকারের (যেমনঃ ১৫, ১৭ইঞ্চি... আকারের) মনিটর পাওয়া যায়। তবে, পার্সোনাল কম্পিউটারে ব্যবহৃত অধিকাংশ মনিটরের কানে তথ্য প্রদশনে ৮০-অক্ষর বিশিষ্ট ২৫টি লাইন ব্যবস্থা থাকে।

গ) কি বোর্ড (Key-board):

কম্পিউটারের তথ্য প্রদানে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইনপুট ডিভাইস গুলোর মাঝে কি-বোর্ড অন্যতম। মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহৃত এ কীবোর্ডের কী-গুলোর সাথে টাইপ রাইটারের কী-গুলোর একটি কাঠামোগত সাদৃশ্য আছে। তবে, এতে কী ৰা সুইচের সংখ্যা টাইপ রাইটারের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। কীগুলো সব ইলেকট্রনিক
স্যুইচের ন্যায় এবং প্রতিটি কী এর উপর এক বা একাধিক পরিচিতি লেখা থাকে। একটি তারের মাধ্যমে কম্পিউটারের মূল প্রক্রিয়াকরণ অংশের সাথে এটি সংযুক্ত
থাকে এবং ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট কী-টি একবার চাপ দিয়ে ছেড়ে দিতে হয়। ৮৪, ৮৫, ১০৮, ১১০ এইরূপ  বিভিন্ন সংখ্যার কী-বোর্ড বাজারে প্রচলিত। বর্তমানে উইন্ডোজ ৯৮/২০০০/ এক্সপি প্রোগ্রাম ব্যবহারের সুবিধার্থে ১০৪ কী এবং
মাল্টিমিডিয়া পরিচালনার ১১০ বা ততোধিক  কী-সম্পন্ন কী-বোর্ড পাওয়া যায়।


কার্যক্রমের বিভক্তি অনুসারে একটি সাধারণ কী-বোর্ডের কী-সমুহকে নিম্নোক্ত পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়ঃ


১. ফাংশন কী (Function key): কী-বোর্ডের উপরিস্থিত সারির F1,
F2,.....,F12 পরিচিতিমুক্ত কী-সমূহ। স্বতন্ত্র প্রোগ্রামের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট নির্দেশ বা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ সকল কী ব্যবহৃত হয়। যেমন, উইন্ডোজ প্রোগ্রাম F1- কী চাপ দেয়া হলে সাহায্য সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শিত হয়।

২ নিউমেরিক কী (Numeric Key): কী-বোর্ডের উপর দিক হতে দ্বিতীয় সারি এবং ডান পার্শে 1হতে  0 পর্যন্ত এবং +, -, *, /, =,  ইত্যাদি চিন্হযুক্ত কী- সমূহ। গাণিতিক তথ্য টাইপ করা এবং এ সংক্রান্ত কাজে বিশেষ চিহ্ন  টাইপ করার জন্য
নিউমেরিক কী ব্যবহৃত হয়।

৩, অ্যালফাবেটিক কী (Alphabetic Key): কী-বোর্ডের কেন্দ্রস্থলে টাইপ
রাইটারের ন্যায় বিন্যাসকৃত A, S, D, F, G অথবা ব, ক, ত, দ প্রভৃতি কী সমুহ। টাইপ করার ক্ষেত্রে এই কী ব্যবহার করা হয়। বাংলা প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এসকল কী সমূহ দ্বারাই বিভিন্ন প্রোগ্রামে বাংলা বর্ণ টাইপ করা যায়।

৪. কার্সর মুভমেন্ট কী (Arrow Key):  কম্পিউটার স্ক্রীনে ব্যবহারকারীর কাজের অবস্থান চিহ্নিতকারী কার্সর চিহ্নটিকে স্ক্রীনের বিভিন্ন স্থানান্তরের জন্য কী বোর্ডের।
তীর চিহ্নযুক্ত কী সমূহ।

৫. স্পেশাল কী (Special Kev): উল্লেখিত কী-সমুহ ব্যতীত কী-বোর্ডের অন্যান্য সকল কী সমুহ । এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কী-এর কাজ নিম্নে বর্ণনা করা
হলঃ

• Backspace: কার্সর বা আইবিম অবস্থানের পূর্ববর্তী (বাম পার্শ্বে)) অক্ষরটি মুছে ফেলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

• Delete: কার্সর বা আইবিম অবস্থানের পরবর্তী (ডান পার্শ্বে) অক্ষরটি মুছে ফেলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

• Caps Lock : অন করে নেয়ার পর অ্যালফাবেটিক কী- সমুহ টাইপ করা হলে বড় হাতের অক্ষর টাইপ হয়। অন অবস্থায় কী বোর্ডের লাইট প্রদর্শিত হয় । পুনরায় এই কী চাপ দিয়ে বন্ধ করা হলে অ্যালফাবেটিক কী সমূহ টাইপের ক্ষেত্রে
ছোট হাতের অক্ষর টাইপ হবে ।

• Shift:  চাপ দিয়ে একই সাথে অন্য কোন কী ব্যবহার করা হলে একাধিক বর্ণ/চিহ্ন খচিত কী-এর ক্ষেত্রে উপরের বর্ণ/চিহ্ন এবং অ্যালফাবেটিক বা ক্ষেত্রে বড় হাতের অক্ষর টাইপ হবে।

Enter:  কোন নির্দেশ প্রদানের সমাপ্তি অথবা পরবর্তী ধাপ বা লাইনে অগ্রসর। হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

• Spacebar:  দুইটি শব্দের মাঝে খালি স্থান তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।

. Alt: বিভিন্ন প্রোগ্রামে নির্দেশ প্রদানে মেনু সচল করার জন্য স্বতন্ত্রভাবে এবং একাধিক কী-এর সাথে যৌথভাবে নির্দেশ প্রদানে ব্যবহৃত হয়।

ঘ) মাউস (Mouse): ইঁদুরের ন্যায় ও আকৃতি সম্পন্ন এ ইনপুট ডিভাইসটি একটি তরের মাধ্যমে কম্পিউটারের মূল প্রক্রিয়াকরণ অংশের সাথে সংযুক্ত থাকে। আকৃতিগত সাদৃশ্যের কারণে একে ইঁদুর বা মাউস নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মসের নীচের প্রান্তে একটি বল এবং উপরের অংশে দুই বা ততোধিক স্যুইচ থাকে। এটি কার্যকর অবস্থায় কম্পিউটারের স্ক্রীনে একটি তীর বা অন্য কোন চিহ্নের মাধ্যমে এর অবস্থান স্ক্রীনে প্রদর্শিত হয়। এভাবে তীর চিহ্নটি কাংখিত স্থানে নিয়ে
মাউসের উপরিস্থিত নির্দিষ্ট স্যুইচটি চাপার মাধ্যমে কোন বিষয় চিহ্নিত করা, নির্দেশ প্রদান, প্রভৃতি কাজ সম্পাদন করা যায়। ব্যবহারে সুবিধার কারণে বর্তমানে মাউস কম্পিউটারের ইনপুট ডিভাইস রূপে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

অপটিক্যাল মাউস (Optical Mouse):
আজকাল বল মাউসের পরিবর্তে অপটিক্যাল মাউস ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি অপটিক্যাল মাউসে বলের পরিবর্তে নড়াচড়ার মুভমেন্ট সনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয় Sensor। সাথে থাকে Optical Encoler যা Horizontal এবং
Vertical Position Encode করে। Light source ব্যবহৃত হয় Light
energy সরবরাহ করার জন্য। Encoder এর প্রতিটি Window দিয়ে আসা Light detect করে Light sensor। উল্লেখ্য যে, ইহা sensor হতে Signal নিয়ে Coursor Movement সহ Cornrnand Execute করার Signal পাঠায় কোন। Command Selection এর পর Push button switches এ Click করলেই উহা Execute হয়। মাউস এ সাধারনত Left এবং Right নামে ২টি Switch এবং ১টি Scroll থাকে যা ডকুমেনী Up/down এ সহায়তা করে।

Working Principal and Operation:
যখন কোন Mouse কে Move করানে হয় তখন Mouse টিতে বিদ্যমান Movement Sensor, Optical encoder কে Sense করে। Optical Encoder উক্ত Sense কে সনাক্ত করে Light Source হতে Light Sensor এ প্রবেশ করায়। তখন Information Control Circuit মাউসের মুভমেন্ট অনুযায়ী
Horizontal এবং Vertical direction নির্নয় করে এবং সে অনুযায়ী Cursor কে Screen এ Move করায়। যখন Menu Bar icon হতে কোন  Command Execute করার প্রয়োজন হয় তখন উক্ত Command বা Icon Select করে Pash Button Switch এ Click করে push Button Switch এ Click করলেই উহা Execute হয়।


Comments