কবর আযাবের ঘটনাঃকবরে আগুন

কবর আযাবের একটি ঘটনাঃকবরে আগুন।

কবরের আযাব সত্য।কিয়ামত কায়েম হওয়ার আগে কবর থাকতে হবে।কবরে শান্তি এবং শাস্তি দুটোই রয়েছে।যে দুনিয়াতে ভালো কাজ করবে কবর থেকেই তার আরামের জিন্দেগী শুরু হয়ে যাবে।আর যে দুনিয়াতে নেক আমলে অলসতা করে গুনাহের কাজ করবে কবর থেকেই তার শাস্তি শুরু হবে এবং তা বাড়তেই থাকবে।

হাদীছে আছে কবর জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে থেকে একটি বাগান অথবা জহান্নামের গর্তসমূহের  মধ্যে থেকে একটি গর্ত।কবরের আযাব থেকে আমাদের পানাহ চাইতে হবে।কবর পরকালের প্রথম মনিযল।যে এ মনযিলে সঠিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তার পরবর্তী প্রত্যেকটা মনযিল সহজ হয়ে যাবে।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৯৫৩ সালে।
ডাক্তার নুর আহমদ নূর বলেন, আমি এ্যানাটমী পড়তাম। আমি তখন পাকিস্তানের নিশতার মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলাম। এ্যানাটমী পড়ার জন্য মানুষের হাড় ও কঙ্কালের প্রয়োজন হতো।

নতুন কলেজ ছিল। তাই প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জামের যথেষ্ট অভাব ছিল। আমাদের এক বন্ধু ছিল।অগত্যা সে কলেজের পার্শ্বে অবস্থিত গোরস্থানের  এক খাদেমের শরণাপন্ন হলো।খাদেম কিছু অর্থ চাইল।এর বিনিময়ে সে কঙ্কাল দিতে সম্মত হল।

বিশেষ গোপনীয়তা রক্ষা করে ছাত্ররা কয়েকবারই নর কঙ্কাল সংগ্রহ করে।একদিন আমরা কয়েক জন খাদেম সাহেবের নিকট গেলাম। কিন্তু তিনি এবার কিছুতেই কঙ্কাল দিতে রাজি হলেন না। আমরা দেখলাম তিনি মসজিদের ভিতরে বসে আছেন। তিনি কোরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় ছিলেন।

তিনি কিছুতেই কঙ্কাল দিতে রাজি হলেন না।বারবার তিনি হাতজোড় করে মাফ চাইতে লাগলেন।আমরা তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ভাব লক্ষ্য করলাম।আমরা তার কারণ জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু তিনি কিছুতেই বলতে রাজি হলেন না।

অনেক পীড়াপিড়ির পর তিনি বললেন, আজ থেকে তিন দিন আগের কথা।আমি কঙ্কালের সন্ধানে রাতের অন্ধকারে বেশ পুরাতন একটি কবর খুলেছিলাম। লক্ষ্য করলাম,কবরের ভিতরে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে।আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমার হতভম্ব ভাব কেটে ওঠার আগেই আগুন এর একটি গোলক আমার দিকে ছুটে আসতে লাগলো।

আমি ভয়ে মসজিদের দিকে ছুটলাম। মসজিদ পর্যন্ত আসার পর রেহাই পেলাম। দৃশ্যটা প্রত্যক্ষ করে আমার মনে এমন ভীতি সৃষ্টি হয়েছে যে এরপর আর কোন কবর খোলার সাহস আমার নেই।

( চোখে দেখা কবরের আযাব ও সত্য ঘটনাবলি, মাওলানা তারিক জামিল)

Post a Comment

0 Comments