(পর্ব : ১) সপ্তাশ্চর্য (গিজার মহাপিরামিড)

পিরামিড : পিরামিড হলো বহুভুজাকার ভূমির উপর স্থাপিত  একধরনের স্থাপনা,যার পার্শ্বতল গুলোর প্রতিটি ত্রিভুজাকার এবং একটি শীর্ষবিন্দুতে মিলিত হয়েছে।

মিশরে পৃথীবির সবচেয়ে বেশি পিরামিড আবিষ্কৃত হয়েছে।এর সংখ্যা  ১৫০ এর কাছাকাছি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গিজার মহা পিরামিড,যা বর্তমান সময়ের  সপ্তাশ্চর্যের একটি।

গিজার মহাপিরামিড



এটি খুফু'র পিরামিড নামে বহুল পরিচিত।  ২৫৬০ থেকে ২৫৪০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে এটি নির্মান করা হয়।৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত এই আশ্চর্য্য স্থাপনাটির উচ্চতা ৪৮১ ফুট।এটি নির্মানে যে সকল পাথর খন্ড ব্যাবহার করা হয়েছে সেগুলোর এক একটির ওজন প্রায় ৬০ টন।সেই সময়ে যখন কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছিলনা তখন এই বিশাল ওজনের পাথর দিয়ে ৪৮১ ফুট এর স্থাপনা নির্মাণ করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জ ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।আর এজন্যই পিরামিডটি নির্মাণ করতে আনুমানিক ১ লাখ শ্রমিকের প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছিল।

প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য গুলোর মধ্যে একমাত্র এই পিরামিডই এখনও পৃথীর বুকে টিকে আছে যা এখন বর্তমান বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি।
মিশরিয়রা চরমভাবে বিশ্বাস করত যে কেউ মারা যাওয়ার পরও তার আত্মা বেঁচে থাকে।তাই তারা মৃত ব্যাক্তির আত্মার বসবাসের জন্য এই সকল পিরামিড তৈরী করেছিলেন। পিরামিড মুলত কবর। এখানে মৃতদেহের সাথে সাথে ব্যাবহার্য আরও অনেক কিছু রাখা হতো। তারা মনে করত আত্মারা এগুলো ব্যাবহার করবে।তাই তারা খাবার ও রাখত। ব্যাক্তি যত প্রভাবশালী হতো তার পিরামিড ততো বড় হত, তাদের সাথে ততো বেশি মুল্যবান জিনিস দেওয়া হতো। তারা আরও বিশ্বাস করত যে,  আত্মা বাঁচে দেহ যতদিন অক্ষত থাকে ততদিন।তাই তারা,বিশেষ করে তখনকার সময়ের রাজা এবং তার পরিবার নিজেদের দেহকে মমি বানিয়ে রাখার আগে থেকেই ব্যাবস্থা করত।এরপর তারা মারাগেলে তাদের দেহকে মমি বানিয়ে  পিরামিডের ভেতরে রেখে আসা হতো। যেই জায়গায় রাখা হতো সেটার ঠিকানা গোপন রাখা হতো। এমনকি এসকল মমি ও মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রিকে পাহারাও দেয়া হতো ..............

Post a Comment

2 Comments