গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবকে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে!

ফেসবুক,গুগল,মেসেঞ্জার,ভাইবার,হোয়াটসঅ্যাপ, ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে এবং বাংলাদেশে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তার জন্য ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে।
গত বুধবার এ বিষয়ে একটি দিক-নির্দেশনা জারি করে তা বাস্তবায়নে তথ্য সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানা যায়, বর্তমানে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন প্রচারসহ বিভিন্ন সেবায় প্রযোজ্য হারে ভ্যাট পরিশোধ করলেও এতদিন বিদেশি টিভি চ্যানেল এর বাইরে ছিল। এনবিআর বলেছে, এ ক্ষেত্রে সমতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে।এই ভ্যাট আদায় করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন জুড়ে দিয়েছে এনবিআর। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে। অথবা ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। কেউ এজেন্ট নিয়োগ না দিলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে চিঠি দেয়া হবে।

নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, দেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইলে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে এবং নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন (হিসাব বিবরণী) দাখিল করতে হবে। আইনানুগ রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশে প্রদত্ত বেতার, টেলিভিশন ও ইলেক্ট্রনিক সেবা সরবরাহকারী সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ করে নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো আইন না মানলে ব্যবস্থা নেবে এনবিআর। সে ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সাইট বন্ধ করে দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়মন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

বেসিসের তথ্য মতে জানা যায় গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ প্রতিবছর অবৈধ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এবং সরকার অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট ট্রান্সফারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এই পুরো টাকাটাই যাচ্ছে অবৈধ চ্যানেলে।

অন্যদিকে নন-ব্যাংকিং চ্যানেলে এ টাকা পরিশোধ হওয়ায় এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই। এমনকি এর বিপরীতে কোনো রাজস্বও পায় না সরকার। তাই ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর কাছ থেকে ভ্যাট নিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments